Home » » ডুবে যাওয়ার আগে যা হয়েছিল ফেরিতে

ডুবে যাওয়ার আগে যা হয়েছিল ফেরিতে

Written By setara on Friday, May 2, 2014 | 5:12 AM

'মনে হচ্ছে টাইটানিক জাহাজে উঠেছি।' হাসতে হাসতে বলেছিল এক কিশোর। পাশ থেকে তার বন্ধু বলে উঠেছিল, 'মুঠোফোন কাজ করছে না? ইশ! ভিডিওটি যদি ফেসবুকে দেওয়া যেত।' যখন উচ্ছল তরুণেরা এসব মজা করছিল তখন দক্ষিণ কোরিয়ার ফেরিটি এক পাশে কিছুটা কাত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারা কেউই ভাবতে পারেনি পরিণতি এত ভয়ংকর হবে। নিশ্চিন্ত মনে উচ্ছল তরুণেরা সে সময়েও ছিল গল্পে মুখর। ১৭ বছরের কিশোর পার্ক সু হেইন ভিডিওতে ধারণ করছিল সব। দক্ষিণ কোরিয়ার ফেরিতে ভ্রমণের সময় সব মজা, আনন্দ ভিডিওতে ধারণ করে রাখতে চেয়েছিল পার্ক। সে এখন দক্ষিণ কোরিয়ার ফেরিডুবিতে নিহত শিক্ষার্থীর তালিকায়। তার লাশের পাশে পড়েছিল মুঠোফোনটি। সেখানে ধারণ করা ভিডিওতে ছিল এসব দৃশ্য।
১৬ এপ্রিল সকাল আটটা ৫২ মিনিটের দিকে মুঠোফোনে ভিডিওটি ধারণ করা শুরু করে পার্ক সু হেইন। এর কিছুক্ষণ পরেই ফেরিটি বিপদের মুখে পড়ে। প্রথম দিকে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। তখনো মজা করছিল তারা। একজন বলছিল, 'মনে হচ্ছে এখনই আমার শেষ কথা বলার সময়।' পরে যখন আতঙ্ক ছড়ায় তখনো মুঠোফোনে ভিডিওটি ধারণ করা হচ্ছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, ফেরি ডোবার আগ মুহূর্তে আতঙ্কে ছোটাছুটি করছেন যাত্রীরা। লাউড স্পিকারে সবাইকে নিজ নিজ জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় আতঙ্কিত এক শিক্ষার্থী বলে ওঠে, 'ক্যাপ্টেন কোথায়? তিনি কী করছেন?'
একজন ছাত্র বলে, 'আমার পা কাঁপছে।' যাত্রীদের যখন লাইফ জ্যাকেট পরতে বলা হয় তখন আতঙ্কিত একজন বলে ওঠেন, 'লাইফ জ্যাকেট পরব? তার মানে কী ফেরি ডুবে যাচ্ছে?' ভিডিওটি দেখার পরে পার্কের বাবা সেটি তুলে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্টগার্ডের কাছে। পরে ভিডিও ফুটেজটি দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার ডুবে যাওয়া ফেরির ৪৭৬ জন যাত্রীর মধ্যে ৩২৫ জনই ছিল একই স্কুলের শিক্ষার্থী। ছুটিতে তারা একটি দ্বীপে বেড়াতে যাচ্ছিল। আজ শুক্রবার সকালে সরকারি হিসাবে জানানো হয়, ফেরিডুবিতে ২২৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৭৭ জন। এএফপি।

0 comments:

Post a Comment